শাব্বির আলী খান।: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা মানুষকে দু’ভাগে বিভক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। ১/নারী ২/পুরুষ।"আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো,যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র ব্যক্তিসত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সে সত্তা থেকে তাদের সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন।
আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী (পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় কর,যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অন্যের কাছে নিজেদের(হক)চেয়ে থাক।এবং আত্মীয়দের অধিকার খর্ব করাকে ভয় কর।নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন"। (সূরা নিসা, আয়াত ১)
ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ ‘মর্যাদা’ দিয়েছে।ইসলাম আগমনের পূর্বে কোন 'ধর্মই তাদেরকে এতো মর্যাদা দেয়নি। বরং তাদেরকে শুধুমাত্র ভোগের বস্তু মনে করা হতো।
ইসলাম আগমনের ‘পূর্বযুগের’ দিকে তাকালেই বুঝা যায় যে,নারীদের ‘মর্যাদা’ প্রদানে ইসলামের 'অবদান' কতবেশি তা একটি 'উপমাই' আমাদের চোখের পর্দা দূরীভূত করে দিবে। আসুন উপমাটি দেখে নেই।"ইসলাম আগমনের পূর্বে "কন্যাসন্তান "জব্মদানকে অপমান ও পাপ মনে করে তাদেরকে জীবিত দাফন"দেওয়া হতো।
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর প্রতি এমন ‘সহিংসতা’ দূর করার জন্য, নারীর ‘মর্যাদা’ প্রদানের জন্য ঘোষণা করেন,"যার তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনটি বোন বা দু'টি বোন থাকে এবং সে তাদেরকে ‘সঠিকভাবে লালন-পালন’ করে এবং তাদের ব্যাপারে (অন্তরে)আল্লাহর ভয় রেখে কাজ করে,তহলে সে তার বিনিময়ে ‘চিরস্থায়ী জান্নাতে’ পৌছে যাবে। (তিরমিজি) কন্যাসন্তানকে জীবিত হত্যা হতে বাঁচাতে ও মর্যাদা প্রাদানের জন্যই রাসুল (সাঃ)এই ফজিলতপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেন।
ইসলাম আগমনের পর সে যুগের ‘বর্বর’ মানুষগুলো যখন ইসলামের ছায়াতলে আসলো এবং রাসুলে কারিম সা. এর সংস্পর্শে আসলো, তখন তারা 'শ্রেষ্ঠ চিরত্রের অধিকারী হয়ে স্বর্নমানবে পরিনত হলো'।আর জাহেলি যুগ পরিনত হলো স্বর্নযুগে।যে 'ধর্ম' ও 'নবী'আগমনের কারণে নারীরা এতো 'মর্যাদা' পেলো,আজ সে ধর্ম ও নবীর প্রতি অবজ্ঞাভরা দৃষ্টিতে তাকানো হয়!
তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী ও প্রগতিশীল নারীরা, নারীর মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের কথা বলে এদেশের সহজ-সরল, অবলা মুসলিম নারীদেরকে খোলামেলা রাস্তায় নামাচ্ছে,নারীদেরকে পণ্য ও ভোগের বস্তু বানাচ্ছে।
এসমস্ত জ্ঞানপাপীদের হাত থেকে এদেশের সহজ-সরল মুসলিম নর-নারীর ইজ্জত আব্রু রক্ষায়, পশ্চাত্য সংস্কৃতির ছোবল থেকে বাঙ্গালী ও মুসলিম সংস্কৃতি রক্ষায় এদেশের আলেম-উলমা ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমানকে এগিয়ে আসতে হবে এবং পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করতে হবে। ইসলামের আলো পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিতে হবে।
-এটি