রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫ ।। ২২ চৈত্র ১৪৩১ ।। ৮ শাওয়াল ১৪৪৬


কওমি মাদরাসায় শুরু হচ্ছে ভর্তি যুদ্ধ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| মোহাম্মাদ হুজাইফা ||

দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কওমি মাদরাসা। প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের পর শাওয়ালের শুরু থেকে এই মাদরাসাগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। ইতোমধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কওমি মাদরাসাগুলোতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ভর্তির। আগামী কয়েক দিন প্রতিটি মাদরাসায় চলবে ভর্তিযুদ্ধ। 

বড় মাদরাসাগুলোতে ভর্তিতে আগ্রহী ছাত্ররা

প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে ছাত্ররা দেশের বড় ও নামকরা মাদরাসাগুলোতে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে থাকে। যেমন তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে- দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী), জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া, যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসা, লালবাগ মাদরাসা, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদরাসা, বারিধারা মাদরাসা, ফরিদাবাদ মাদরাসা, মালিবাগ মাদরাসা, চৌধুরীপাড়া মাদরাসাসহ দেশের জনপ্রিয় বড় মাদরাসাগুলো। 

অনেক ছাত্রকে দেখা যায়, ছোট মাদরাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করে। তারা শেষ দিকের জামাতগুলো বড় মাদরাসায় পড়তে আগ্রহী হয়ে ওঠে। সে লক্ষ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঈদের পরপরই রাজধানীতে আসতে শুরু করে। 

ভর্তি মৌসুম ঘিরে প্রস্তুতি 

প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই ছাত্ররা বড় এবং মানসম্পন্ন মাদরাসাগুলোতে ভর্তি হওয়ার লক্ষ্যে নানা রকম প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। মাদরাসা সংশ্লিষ্ট উস্তাদদের পরামর্শে কিতাবাদি মোতালায়া করেন। 

বিভিন্ন মাদরাসায় ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে কোর্স চালু করা হয়। সেখানে নুরুল আনওয়ার এবং ফিকহের কিতাবগুলো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

তবে ইসলামিক আইন (ইফতা) বিভাগে ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটু আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। নুরুল আনোয়ার, হেদায়া ও হাদিসের কিতাব থেকে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। 

ভর্তিচ্ছুদের জন্য মানসিক চাপ

সুশৃঙ্খল ধর্মীয় পরিবেশে সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার মানসিকতা থেকেই কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার দিন দিন বাড়ছে। তবে আসন অপ্রতুল হওয়ার কারণে অনেক সময় ভালো শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও ভর্তির সুযোগ মেলে না। এতে তাদের মধ্যে একধরনের হতাশা দেখা দেয়। 

ভর্তি পরীক্ষা

অধিকাংশ মাদরাসায় একাধিক ধাপে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রথমে লিখিত। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। ফলে ভর্তি হওয়াটা যেন একপ্রকার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।

সুযোগ-সুবিধা

একটি ভালো মাদরাসায় ভর্তির অর্থ শুধু ভালো শিক্ষা নয়, বরং মানসম্মত হোস্টেল, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মতান্ত্রিক দিনযাপন এবং অভিজ্ঞ আলেমদের সংস্পর্শ লাভও। তাই সবাই নামকরা কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ খোঁজে।

এদিকে অনেক মাদরাসা সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কোর্স চালু করেছে, যেমন ফতওয়া বিভাগ, আরবি সাহিত্য বিভাগ, ইফতা বিভাগ ইত্যাদি। যেখানে ভর্তি হতে আলাদা মেধা ও যোগ্যতা প্রয়োজন হয়।

একটি অসুবিধা

বর্তমানে দেখা যায়, রাজধানীর বড় বড় মাদরাসাগুলোতে একই তারিখে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এতে ছাত্ররা বেশ ভোগান্তির শিকার হয়। এক মাদরাসায় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে অন্য মাদরাসায় গিয়ে ভর্তির সুযোগ আর থাকে না। 

এই পরিস্থিতিতে ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ভর্তির তারিখ কিছুটা আগ-পর করা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, কওমি মাদরাসায় ভর্তি প্রক্রিয়া প্রযুক্তিনির্ভর করে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ভর্তি প্ল্যাটফর্ম চালু করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই বিভিন্ন মাদরাসায় আবেদন করতে পারবে। ভর্তি কার্যক্রম হবে আরও গতিশীল ও মানসম্পন্ন।

এছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানীতে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন ও খাবার ব্যবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়তে হয়। বড় মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষকে এদিকে নজর রাখা উচিত। 

মাদরাসা নির্বাচন 

ভর্তিযুদ্ধের মতো ক্রাইসিস পরিস্থিতিতে কী বৈশিষ্ট্য দেখে মাদরাসা নির্বাচন করতে হবে অনেক সময় ছাত্ররা বুঝে উঠতে পারে না। অনেকে জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তি দেখেই তার মাদরাসায় ভর্তি হয়ে যায়। অথচ ভর্তি হওয়া জামাতে তার কোনো দরস থাকে না। ভর্তি হওয়ার পর কয়েক মাস পার হতেই ছাত্রদের আফসোস করতে দেখা যায়৷ তাই সতর্কতার সঙ্গে মাদরাসা নির্বাচন করা উচিত। 

যে জামাতে ভর্তি হতে আগ্রহী সে জামাতে দরস প্রদানকারী যোগ্য ও আদর্শ আসাতিযা, মাদরাসার আমলি ও আখলাকি পরিবেশ,  পড়ালেখার পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের চিন্তাগত উদারতা ও পাঠাগার ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য রেখে মাদরাসা নির্বাচন করা উচিত। এক্ষেত্রে ইবনে সীরিন রহ. এর একটা কথা স্মরণীয়, 'এই ইলম হলো, দ্বীন। সুতরাং তুমি কার কাছ থেকে তা গ্রহণ করছো আগে যাচাই করো।'

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর



সর্বশেষ সংবাদ