200638

হেফাজতের মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার মতো বাস্তবতা আমার নেই: মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক

মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। দীপ্তময় কণ্ঠের অধিকারী। সাহসী উচ্চারণ আর ঈমান জাগানিয়া হৃদয়ে দ্রোহের আগুন জ্বালানোর সৈনিক। ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস। সম্প্রতি ইসলামি ভাবধারার রাজনৈতিক সংগঠন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন তিনি। ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য, খেলাফত মজলিসের অভ্যন্তরীণ বিষয়, হেফাজতে ইসলাম ইত্যাদি বিষয়ে কথা হয় মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে। কথা বলেছেন আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব


আওয়ার ইসলাম: সাম্প্রতিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন আপনি। দল নিয়ে আপনার রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা শুনতে চাই।

মাওলানা মামুনুল হক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নিয়ে আমার চিন্তা-ভাবনা সুদূর প্রসারী। আমার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সকল স্তরের জনশক্তির মাঝে চিন্তার সমন্বয় মজবুত করা। এর মাধ্যমে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ সামাজিক একটা রূপ যেন ফুটিয়ে তোলা যায়। যার একটি অধ্যায় হবে রাজনৈতিক কার্যক্রম। আর সে রাজনীতিও হবে অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আলোকে। আদর্শ ও প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার রাজনীতি।

আওয়ার ইসলাম: রাজনীতিতে আপনার উত্থানের প্রধান সিঁড়ি- বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস। দীর্ঘসময় দলটির সভাপতি আপনি। মূল দলের স্টিয়ারিং সিটে বসে-যুব মজলিসের সঙ্গে সমন্বয় করবেন কীভাবে? কখনো যুব মজলিস ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে?

মাওলানা মামুনুল হক: যুব মজলিসের চিন্তা ছিলো অনেকটা মধ্যবর্তী চিন্তা। অর্থাৎ একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী সংগঠন গড়ে তোলার জন্য যে ধরণের কর্মসূচি ও প্রাথমিক বুনিয়াদ তৈরি করা দরকার, যে চিন্তা-পরিকল্পনা প্রয়োজন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটা পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিয়েছিলাম। কাজেই যদি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে যুব মজলিসের স্বতন্ত্র ভিন্ন কোনো ধারা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন থাকবে না। বরং সেটা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরই স্রোতে একাকার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
সে হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাঝে সেই চিন্তা ও পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন করা যায়, তার উপরই নির্ভর করবে খেলাফত যুব মজলিসের ভবিষ্যত।

আওয়ার ইসলাম: মূল দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং যুব মজলিসের দুটি ছাত্র সংগঠন আছে। সমন্বয়ের পরিকল্পনা  আছে কী?

মাওলানা মামুনুল হক: দুটি ছাত্র সংগঠনের বিষয় কিছুটা সমন্বয় প্রয়োজন হবে। সেটা আমরা সময়ের প্রয়োজনে, বাস্তবতার আলোকে এবং আগামী দিনের মূল কর্মপরিকল্পনার জন্য যেভাবে সহায়ক সেভাবে সমন্বয় করে নিব ইনশাআল্লাহ ।

আওয়ার ইসলাম: সমমনা ইসলামী দলগুলোর ব্যানারে ইস্যুভিত্তিক কাজ করছেন। এই সমমনা দলের ঐক্য কি আদর্শিক নাকি রাজনৈতিক?

মাওলানা মামুনুল হক: সমমনা ইসলামী দলের যে ঐক্য সেটা আদর্শিক নাকি রাজনৈতিক সেটা গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ এখনো হয়নি। আপাতত বাংলাদেশে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের লক্ষে সমমনা যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে কর্মসূচিভিত্তিক একটা ঐক্য গড়ে উঠছে। যদি এভাবে পথ চলতে চলতে পথচলাটা আরো সমন্বিত হয়, সকলের মধ্যে চিন্তার সমন্বয় গড়ে ওঠে, তবে ভবিষতে পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে ঐক্যের একটা মজবুত ভিত্তি বা প্লাটফরম গড়ে উঠতে পারে ইনশাআল্লাহ।

আওয়ার ইসলাম: আপনি বরাবরই ঐক্যের আওয়াজ তোলেন! কাদের সঙ্গে ঐক্য গড়তে চান? সেই ঐক্যের ভিত্তি বা আদর্শ কি হবে?

মাওলানা মামুনুল হক: আমি অবশ্যই আস্থার সাথে বলতে পারি, ঐক্যের বিষয়ে আমি আন্তরিক। ঐক্যের জন্য সর্বদাই আমি চেষ্টা করে থাকি। এক্ষেত্রে আমার আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। তবে অবশ্যই আমি যে ঐক্য চাই সেটি শুধু সাময়িক ও ইস্যুভিত্তিক ঐক্য নয়, বরং স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী ঐক্য। তবে দীর্ঘমেয়াদী ঐক্যের জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য মনে করি। একটি হলো জবাবদিহিতা। অন্যটি হলো স্বচ্ছতা। সে জন্য নীতিমালা নির্ধারিত হয়ে সে আলোকে কাজ হওয়া উচিৎ । স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে ঐক্য টেকসই হয় না।

আওয়ার ইসলাম: সাম্প্রতিক ইসলামী আন্দোলনের অঙ্গ সংগঠন- যুব আন্দোলনের এক অনুষ্ঠানে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন! ফালুদা খাওয়ার গল্পও শুনিয়েছেন! সেই ঐক্য প্রক্রিয়া কতদূর?

মাওলানা মামুনুল হক: আমি যে ঐক্যের কথা বলেছি, সেটা অনেক সুচিন্তিত ঐক্যের প্রস্তাব। সেখানে পথচলার আগেই যাবতীয় আলোচনা খোলাসা করে এর রূপরেখা, এর নীতি ও নিয়ম, এর শৃঙ্খলার যাবতীয় ধারা-উপধারা নির্ধারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে আদর্শিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য সব রকমের ঐক্যই করা সম্ভব হবে এবং সেটা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আগামী দিনে আরো কাজ করার ইচ্ছা রাখি । এভাবে ইনশাআল্লাহ আদর্শিক ও রাজনৈতিক ঐক্য বাস্তবায়ন করতে পারবো বলে আশা করি।

আওয়ার ইসলাম: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর ইন্তেকালের এক মাসেরও বেশি সময় পার হলো। আমির কিংবা ভারপ্রাপ্ত আমির ছাড়াই চলছে সংগঠনটি । কাকে দেখতে চান কিংবা কেমন আমির চান?

মাওলানা মামুনুল হক: শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর ইন্তেকাল পরবর্তী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির নির্বাচন হওয়াটা অবশ্যই অনেক বড় প্রয়োজন। তবে দীর্ঘদিনের এক ধরনের স্থবিরতাও কাজ করছিলো হেফাজতে ইসলামের মধ্যে। হাটহাজারী মাদরাসাসহ হেফাজতের নেতৃত্বে কিছুটা অচালবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো।

সে হিসেবে সংগঠনটিকে পুনরায় চাঙ্গা করা এবং নিয়মতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপারই। তবে ইতোমধ্যেই সে শূন্যতা অনেকটা কেটেছে। কাজ এগুচ্ছে বলেই মনে হয়।

আল্লামা আহমদ শফি রহ. এর উত্তরসূরী হিসেবে তার মতোই একজন সর্বজন গ্রহণযোগ্য, সাহসী, প্রভাবক ব্যক্তিত্বকে আমির হিসেবে চাই। হেফাজতে ইসলামে আল্লামা শাহ আহমদ শফির উত্তরসূরী হিসেবে পরবর্তী সম্ভাব্য যার বা যাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে এবং আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি, আমরা আশা করছি, যার উপরই দায়িত্ব অর্পিত হোক, তিনি আল্লাহর মেহেরবানিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফির মতই ইসলাম, দেশ ও জাতির খেদমতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

আওয়ার ইসলাম: হেফাজতের মহাসচিব পদে নানা জনের নাম শোনা যাচ্ছে ! শোনা যাচ্ছে আপনার নামও। কিভাবে দেখছেন বিষয়টি?

মাওলানা মামুনুল হক: হেফাজতের মতো বিশাল এ সংগঠনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য একাধিক ব্যক্তির নাম আলোচনায় থাকতেই পারে। অনেকে আমার নামও আলোচনা করছেন। তবে এ ধরনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য আমি এখনো প্রস্তুত নই। হেফাজতের মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার মতো বাস্তবতা আমার নেই। আমি মনে করি, সিনিয়র ও সর্বজনগ্রহনযোগ্য, প্রজ্ঞাবান কাউকে এ দায়িত্ব দিলেই ভালো হবে। মুরব্বীদের অধিনে ময়দানে ভূমিকা পালন করতেই আমি নিজে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।

-এএ

আপনার বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01640523566