192502

এবার ঢাকায় করোনার উপসর্গহীন মৃতদের দাফন-কাফনেও তাকওয়া ফাউন্ডেশন

আবদুল্লাহ তামিম।।
ডেপুটি এডিটর>

রাজধানী ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। এর মাঝে সাধারণভাবে যারা মৃত্যু বরণ করছেন তাদের লাশের কাছেও ভয়ে যেতে চাচ্ছেন না মানুষ। এ ধরণের মৃতদের কাফন দাফনে টিম গঠনে তরুণ আলেম ও দীনদার ভাইদের স্বেচ্চাশ্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তাকওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা গাজী ইয়াকুব।

‘মানবতার কল্যাণে আমরা’ স্লোগান সামনে রেখে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের যাত্রা। ঢাকাসহ সারা দেশে করোনায় মৃতদের কাফন দাফনে সর্ব প্রথম যিনি অনলাইনে পোস্ট দিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন। আমরা তাকে খুব ভালো করেই চিনি। বিশিষ্ট সমাজ সেবক, তরুণ আলেমে দীন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব।

আজ শনিবার ঢাকায় করোনায় মৃতদের দাফনে এগিয়ে আসার এ আহ্বান জানান তিনি।

মুঠোফোনে আওয়ার ইসলামকে তিনি বলেন, ঢাকায় সাধারন মৃত ব্যক্তিও এ কঠিন সময়ে অবহেলার শিকার হচ্ছেন। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডেথ সার্টিফিকেট থাকলে তাকওয়া ফাউন্ডেশন লাশটির দাফন কার্যও সম্পন্ন করবে ইনশাআল্লাহ। ডেথ সার্টিফিকেট সম্পর্কে তিনি বলেন, ডেথ সার্টিফিকেট থাকলে মৃতব্যাক্তি সম্পর্কে আর কোনো জটিলতা থাকে না। তখন আমরা কাফন দাফনের কাজ সহজেই করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, ঢাকায় এই মোবারক কাজে যারা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে যেকোনো সময় ফোন কল দিলে আমাদের সাথে কাজে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। মেহেরবানি করে তাদেরকেই আমরা যোগাযোগ করতে বলবো।

রাজধানীর বাইরে এ পর্যন্ত ১৩২ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ব্যক্তির কাফন দাফন সম্পন্ন করেছে তাকওয়া ফাউন্ডেশন। তবে ঢাকার ভিতরে কতজনের মৃত্যু বা কাফন দাফন এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

মাওলানা গাজী ইয়াকুব প্রতিষ্ঠিত তাকওয়া ফাউন্ডেশনের আওতায় সারা দেশের প্রায় ৫২ টি জেলায় স্বেচ্চাসেবকরা টিম গঠন করে করোনায় আক্রান্তদের কাফন দাফনের ব্যবস্থা করে আসছেন।

এ বিষয়ে মাওলানা গাজী ইয়াকুব বলেন, সারাদেশের ৫২টি জেলার যে থানাগুলোতে আক্রান্ত বেশি সেখানেও আমাদের টিম গঠন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। তরুণ আলেম ও দীনি ভাইয়েরা এ কাজে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন। কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে শুরু করে বরুড়াসহ কয়েকটি থানায় আক্রান্ত বেশি হওয়ায় টিম গঠন করা হয়েছে।

এদিকে সিলেটের মৌলভী বাজারসহ কয়েকটি টিম গঠন হয়েছে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার এলাকাগুলোতে আক্রান্তের মাত্রা বেশি। কক্সবাজারকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানেও কাজ করছে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম। পাহাড়তলী রামুসহ খাগড়াছড়িতেও কাজ হচ্ছে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে।

তিনি আরো বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের দেশে ভয়াবহ আম্ফানের আঘাতে ঘরহারা অসহায়দের পাশেও দাঁড়িয়েছে তাকওয়া ফাউন্ডেশন। অসহায়দের ত্রাণ বিতরণ, ঘর ঠিক করে দেয়া, পূণর্বাসনের নানান আসবাবও দেয়া হয়েছে।

কাফন দাফনে নানান জটিলতা থাকায় কয়েকটি শর্ত সামনে রেখে মাঠে কাজ করার কথাও বলেন তিনি। শর্তগুলো হচ্ছে।

১। মৃত ব্যক্তির গার্জিয়ানরা ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা করবেন। ২। মৃতব্যক্তির গোসল দেওয়ার জায়গার ব্যবস্থা করে দিতে হবে ৩। যদি কারো কাফনের কাপড়ের ব্যবস্থা না থাকে কিংবা ট্রান্সপোর্ট দেওয়ার মতো ক্ষমতা না থাকে। আমরা সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে নিব ইনশাআল্লাহ। ৪। সরকার নির্ধারিত কবরস্থানে কবর খননের দায়িত্বটা গার্জিয়ানদেরকেই নিতে হবে। ৫। মৃত ব্যক্তির কাফন জানাযা ও দাফন সকাল সাতটা থেকে রাত আটটা অবধি এরপরে কোনরকম রিকোয়েস্ট আমরা গ্রহণ করব না।

-এটি

ad