191195

কওমি মাদরাসাসমূহের পাশে দাঁড়াতে ময়মনসিংহ ইত্তেফাকুল উলামার আহ্বান

আল-আমিন(বাপ্পি)
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি>

চলমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী।

গতকাল (১৩মে) মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী মজলিসে শুরার সভাপতি আল্লামা আব্দুর রাহমান হাফেজ্জী, কেন্দ্রীয় আমেলার সভাপতি আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল হক, সহ সম্পাদক মুফতি মুহিব্বুল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ, মুফতি মাহবুবুল্লাহ,কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মুফতি আমীর ইবনে আহমদ ও মুফতি শরীফুর রহমান প্রমুখ এ আহবান জানান।

তারা আরো বলেন,বর্তমানে সারা বাংলাদেশ আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত,আর এই সংকটকালীন মুহুর্তে,ব্যক্তি,পরিবার,এমনকি রাষ্ট্র পর্যন্ত সংকটময় পরিস্থিতির শিকার। আর এই সংকট থেকে মুক্ত নয় দেশের কওমি মাদরাসাগুলোও। ঈমান ও দ্বীনি শিক্ষার বাতিঘর কওমি মাদরাসাগুলো আজ কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষাবর্ষ সমাপ্তির আগেই মাঝপথে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমনিতেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতি দুই মাসাধিককাল অতিক্রম করায় এখন তা নাভিশ্বাস পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমতাবস্থায় অনিশ্চিত ভবিষ্যত চিন্তায় কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা চরমভাবে উৎকন্ঠিত।

জনসাধারণের অর্থ সহায়তায় পরিচালিত কওমি মাদরাসাগুলো সাধারণভাবে রমজানুল মোবারকে বিত্তবানদের প্রদত্ত যাকাত সংগ্রহ করে লিল্লাহ বোর্ডিং এর বকেয়া পরিশোধ করে থাকে। এই ফান্ড থেকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণ সহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়ে থাকে। সারা বছর ব্যয়ভার বহন করে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে, রমজান মাসে সংগৃহিত টাকা থেকে সে ঋণ পরিশোধ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবছর করোনার কারণে মাদরাসাগুলো যাকাতের অর্থ সংগ্রহের জন্য দাতাদের কাছে যেতে পারছে না। অন্যদিকে যাকাতদাতারাও মানবিক ত্রাণ সহায়তায় অর্থ ব্যয় করার কারণে কাঙ্খিত পরিমাণ অর্থ মাদরাসার ফান্ডে দিতে পারছেন না। ফলে মাদরাসাগুলো বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে রয়েছে চরম বেকায়দায়।

কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা ৫/১০ হাজার টাকা বেতনে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। নির্ধারিত বেতনও প্রতিমাসে নিয়মিত পরিশোধ হয় না, তবুও তারা দ্বীনের স্বার্থে হাসিমুখে এই মেহনত করে যান। দেখা যায় সারা বছর বেতন নেওয়ার পর যা বকেয়া থাকে রমজানুল মোবারকে তার অনেকটাই পরিশোধ হয়ে যায়। কিন্তু এবার আকস্মিক মাদরাসাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমনিতেই তারা ২/৩ মাস যাবত বেতন পাচ্ছেন না। উপরন্ত এবারের রমজান এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। দাতাগোষ্ঠীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় তারা সেভাবে সহযোগিতা করতে পারছেন না। ফলে শিক্ষকরা অর্থসংকটে নীরবে-নিভৃতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কর্তৃপক্ষও অর্থ সংস্থান করতে না পেরে হয়রান পেরেশান হচ্ছেন।

এমতাবস্থায় কওমি মাদরাসাসমূহের আহলে খায়ের-শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান হচ্ছে, দ্বীনি চেতনার বাতিঘর, আদর্শ মানুষ গড়ার কারখানা এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আপনার সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে আসুন। আপনার পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানটির খোঁজ খবর নিন। আপনার যাকাত ও অন্যান্য দান মাদরাসায় পৌঁছে দিয়ে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ান। আলেমে দ্বীন যারা মুখ ফুটে কারো কাছে কিছু চায় না আপনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের খোঁজ খবর নিন । সম্মানজনকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে তাদের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসুন।
ইতোমধ্যে ইত্তেফাকুল উলামা তার শুভাকাঙ্ক্ষী আইয়িম্মায়ে কেরাম ও সর্বসাধারণের আন্তরিক ও আর্থিক সহযোগিতায় অসহায় মানুষের জন্য বেশ কিছু সহযোগিতামূলক কার্যক্রম সফলতার সাথে আঞ্জাম দিয়েছে। এখনও সাধ্যমত চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের দেশে গত ২/৩ দশকে ভাড়া বাসায় বিপুল সংখ্যক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত ২/৩ মাস করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তারা বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে হয়তো আরো ২/১ মাস এই অবস্থা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বাসার মালিকদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, সংকটকালীন এসময়টাতে ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এগিয়ে আসুন। সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।

-এটি

ad